তথ্যপ্রযুক্তি ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যদিয়ে ই-মিউটেশন (ই-নামজারি) কার্যক্রমে ময়মনসিংহ জেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন তারাকান্দা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম নাজমুস ছালেহীন। কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই তিনি ভূমি কেন্দ্রিক সেবাকে জনসাধারণের আস্থার জায়গায় পরিণত করেছেন। তাঁর এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এখন পুরো উপজেলায় প্রশংসায় ভাসছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই ই-মিউটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নামজারির মোট ফি ১,১৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই।
ডিজিটাল ভূমি সেবার এই সুফল সরাসরি পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বানিহালা ইউনিয়নের মাঝিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন সরকার তাঁর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, তিনি তাঁর সন্তানের নামে একখন্ড জমি নামজারির জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলেন (আবেদন নং: ৫৫৫৪০২০, কেস নং: ৬৭৮৬(IX-I)/২০২৫-২৬)। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব কোনো প্রকার অতিরিক্ত লেনদেন ছাড়াই দ্রুত প্রতিবেদন পাঠানোর পর, কানুনগো প্রতিবেদন প্রাপ্তির সাথে সাথেই আজ ১২ই জুলাই উক্ত নামজারি মঞ্জুর হয়। কোনো প্রকার হয়রানি ও ঘুষ ছাড়া দ্রুত খারিজ সম্পন্ন করতে পেরে তিনি অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তারাকান্দার সহকারী কমিশনার (ভূমি),এস এম নাজমুস ছালেহীন বলেন,”এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঠিক দিকনির্দেশনা। সেই সাথে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত ও নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই অর্জন ধরে রাখাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি উপজেলাবাসীর কাছে ভূমি সেবা আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে আমরা ভূমি মালিকদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তারাকান্দা ভূমি অফিসের এই আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক কার্যক্রমের ফলে একদিকে যেমন দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমেছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর হয়ে সরকারের ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে।