ময়মনসিংহ মহানগরীর ৩৩ নং ওয়ার্ডের ঝাউগড়া এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ও আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত জমিতে চাষাবাদ করতে গিয়ে প্রতিবেশী আল আমীনগংদের বাধার মুখে পড়া একটি ভুক্তভোগী পরিবারকে রক্ষা করেছে পুলিশ। ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ কল করার পর থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক ও বলিষ্ঠ ভূমিকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় ট্রিপল নাইন ও ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ঝাউগড়া এলাকার আবুল কাশেমগং পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ওই ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চালান। পরবর্তীতে আদালত ওই ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত ডিক্রি মোঃ আবুল কাশেমগংদের পক্ষে প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরজমিনে এসে লাল নিশান টাঙ্গিয়ে দীর্ঘদিন পর ভুক্তভোগী পরিবারটিকে জমির দখল বুঝিয়ে দেয়। এরপর সেখানে একটি ঘর তুলে তারা ভোগদখল শুরু করেন।
তবে সম্প্রতি বাদী আবুল কাশেম গং ওই ডিক্রিপ্রাপ্ত জমিতে ট্রাক্টর নিয়ে চাষাবাদ করতে গেলে বিপত্তি ঘটে। প্রতিবেশী আল আমীন ও মিন্টু মিয়া গংরা দলবল নিয়ে এসে ফসলের ক্ষেতে ট্রাক্টর নামতে বাধা দেয় এবং চাষাবাদ বন্ধ করে দেয়। আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষের এমন মারমুখী অবস্থানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
কোনো উপায় না দেখে গত ৭ই জুলাই (মঙ্গলবার) ভুক্তভোগী পরিবারটি অসহায় অবস্থায় যখন, তখন ঐ পরিবারের পক্ষ থেকে মোঃ মিজানুর রহমান জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য কামনা করেন।
৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিক বার্তা পেয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সার্বিক দিক-নির্দেশনায় মাঠে নামে থানা পুলিশ। থানার মোবাইল-৩ টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) জালাল উদ্দিন দ্রুত সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, “আদালতের রায় পাওয়ার পরও আমরা আমাদের নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছিলাম না। প্রতিপক্ষের বাধার মুখে ৯৯৯-এ কল করার পর পুলিশ যেভাবে দ্রুত এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আমরা ট্রিপল নাইন, ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি এবং এসআই জালাল উদ্দিনসহ পুরো পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
এলাকাবাসী পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও সময়োপযোগী ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন