দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং ৭ দফা দাবি আদায়ে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল দলিল লেখককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি।
১৮ই জুলাই( শনিবার) ঢাকার মোহাম্মদপুরে সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয়ে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির নীতি-নির্ধারণী কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ রশিদের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব কেএস হোসেন টমাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা দলিল লেখকদের বর্তমান পেশাগত সংকট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং তাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
সভায় দলিল লেখকদের পেশাগত সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় নিম্নলিখিত ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে কোনোভাবেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না।
বর্তমান বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় দলিল প্রতি ন্যূনতম সম্মানী ভাতা ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতীত অন্য কেউ যেন দলিল মুসাবিদা (লিখন) করতে না পারে এবং রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করতে না পারে, সে বিষয়ে অবিলম্বে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ব্যতীত অনভিজ্ঞ ও বহিরাগতদের নতুন দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
দেশের প্রতিটি থানা ও জেলা রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের জন্য বসার সুব্যবস্থা এবং নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে।
যেহেতু পক্ষগণের (ক্রেতা-বিক্রেতা) সরবরাহকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতেই দলিল লেখা হয়, সেহেতু দলিলের অভ্যন্তরীণ কোনো জালিয়াতি বা ত্রুটির কারণে দলিল লেখককে কোনোভাবেই আসামি করা বা আইনি হয়রানি করা যাবে না।
দলিল লেখকদের অধিকার ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি স্বতন্ত্র ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমতি প্রদান করতে হবে।
সভায় সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন,
”দলিল লেখকরা যুগ যুগ ধরে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ও জনগণের সম্পদ সুরক্ষায় ভূমিকা রেখে আসছেন। আধুনিকায়নের আমরা বিরোধী নই, তবে এর নামে লাখ লাখ দলিল লেখককে বেকার করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। আমাদের দেওয়া ৭ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”
জরুরি সভায় উপস্থিত সকল নেতৃবৃন্দ একযোগে দলিল লেখকদের অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন ও সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উক্ত জরুরি সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন :
রফিকুল ইসলাম সরকার, নূরুল হক মিয়া, এম. এ. তাহের, মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিক, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম বাবুল, লায়ন সাইফুল ইসলাম, ফরিদুর রহমান, এস. এম. আয়নাল হক, মো: ফিরোজ আলম, আমিনুল ইসলাম আকন্দ, মো: রুহুল আমিন খান, মিজানুর রহমান, মিয়া, মো: সোহাগ পারভেজ, মামুনুর রশিদ, আরজু আখন্দ, গোলাম মোস্তফা, জহুরুল হক টুকু, হামিদুর রহমান, গোলাম রব্বানী, মাহাবুবুল আলম রুবেল, মোহাম্মদ আলী, মোদাচ্ছের আলী, মো: ওয়াজ উদ্দিন, মোজাম্মেল হক, শামসুল আলম সুরুজ, এনামুল হক সরকার, মফিজ উদ্দিন তালুকদার, আব্দুল আউয়াল,জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।