ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ২নং বানিহালা ইউনিয়নের মাঝিয়ালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও ঐতিহ্যবাহী বিএনপি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নাজমুল সরকার। স্থানীয়ভাবে ‘বিএনপির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ীর সন্তান তিনি। পিতা আবুল হাসেম সরকারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শৈশব থেকেই নাজমুল সরকারের ধমনীতে মিশে আছে জাতীয়তাবাদী আদর্শ। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাকে বহু নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, কিন্তু আদর্শ থেকে তিনি বিচ্যুত হননি এক চুলও।
নাজমুল সরকারের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে। ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে চারদলীয় জোটের রোড মার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহে এসেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তখন তিনি মাত্র পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। জীবনের প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিতে পাড়ি জমান ময়মনসিংহে। স্মৃতিচারণ করে নাজমুল সরকার বলেন, “সেদিন গাড়ি থেকে আমাদের চায়না মোড়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ পার হয়ে সার্কিট হাউসের জনসভায় যোগ দিই। সমাবেশ শেষে আবার পায়ে হেঁটে চায়না মোড়ে এসে গাড়িতে উঠি। সেই থেকে আমার হৃদয়ে জাতীয়তাবাদের বীজ রোপিত হয়।” এই ঐতিহাসিক দিনটিতেই তিনি প্রবীণ ও বরেণ্য জননেতা জনাব মোতাহার হোসেন তালুকদারের সান্নিধ্য ও পরিচয় লাভ করেন, যা তার রাজনৈতিক চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হলে সারা দেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। সেই সময় স্কুলছাত্র নাজমুল সরকার তারাকান্দার রাজপথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগ দেন। পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তারাকান্দা বাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে জীবনের প্রথম জ্বালাময়ী স্লোগান দিয়েছিলেন তিনি— “এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ কেন, ওই হাসিনা জবাব দে; জবাব দিতে ব্যর্থ হলে গদি ছেড়ে দে।” শৈশবের সেই সাহসী স্লোগানই তাকে পরবর্তীতে রাজপথের এক নির্ভীক ছাত্রনেতায় পরিণত করে।
বিএনপির রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন এবং অনিশ্চিত দিনগুলোতেও রাজপথ ছাড়েননি নাজমুল সরকার। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮শে অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালকে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়ন, মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে চরম কষ্ট ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি ছাত্রদলের ঝান্ডা ধরে রেখেছিলেন।
দল ও আদর্শের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তরুণ এই ছাত্রদল নেতা বলেন, “বিএনপি ও ছাত্রদলকে ভালোবেসে, শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে আজ অবধি রাজপথে আছি এবং আগামীতেও যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছি।”
তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করেন, নাজমুল সরকারের মতো ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের কারণেই শত জুলুম-নির্যাতনের পরও তারাকান্দায় জাতীয়তাবাদী শক্তি আজ সুসংগঠিত ও শক্তিশালী।