ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশনের রাঘবপুর চিকামারীর খালটি দখল করে মৎস্য ফিশারি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ইউনিয়নের রাঘবপুর চিকামারি এলাকার প্রায় ১০ হেক্টর ফসলি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত কৃষকের সারা বছরের ঘাম ঝরানো ফসল নষ্ট হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরজমিনে রাঘবপুর চিকামারি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথটির মুখ কৃত্রিমভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠজুড়ে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পানি সরতে না পারায় ধানের ফসল পানির নিচে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “এই খালটিই ছিল আমাদের এলাকার পানি নামার একমাত্র ভরসা। এখন খালের মুখ বন্ধ থাকায় আমাদের কষ্ট করে লাগানো ফসল মাঠেই পচে যাচ্ছে। আমরা এখন নিরুপায়।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ— এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি নুরুল হক, কামরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান ও আব্দুর রহমান মিলে খালের গতিপথ আটকে দিয়েছেন।তারা সেখানে ব্যক্তিগত মৎস্য ফিশারি তৈরি করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ করেছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক আবুল কালাম আজাদ,তোতা মিয়া,এমদাদুল হক মিন্টু, আঃ বারেক, আজিত মাস্টার, আনিসুর রহমান ও ফজলুল হক মন্ডলসহ বহুকৃষকের ধানের ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকেরা জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তারা খালের মুখ উন্মুক্ত করছেন না। একাধিক কৃষক বলেন, “ফসল ঘরে তুলতে না পারলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
বর্তমানে জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সমাজ।
অবিলম্বে খালের মুখ থেকে অবৈধ বাঁধ ও ফিশারি অপসারণ করতে হবে।
পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে খালটি খনন করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
কৃষকরা জানান, আগামী মৌসুমের আবাদ নিশ্চিত করতে হলে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রাঘবপুর চিকামারী এলাকার কয়েকশ কৃষক।