বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
দলিল লেখকদের পেশাগত মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে ৭ দফা দাবিতে ময়মনসিংহে স্মারকলিপি প্রদান দলিল লেখকদের ৭ দফা দাবিতে মহাপরিদর্শক নিবন্ধনের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান মেধা ও স্বচ্ছতার জয়: তারাকান্দায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির নিয়োগ প্রক্রিয়া সর্বমহলে প্রশংসিত ভাবখালীতে নির্বাচনী হাওয়া: তৃণমূলের জনপ্রিয় মুখ রফিকুল আলম শামীমের গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক ফুলপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারির অভিযোগ, বস্তাবন্দী চাল আটক তারাকান্দায় আবাসিক মাদ্রাসায় শিশুশ্রমে বাধ্য করায় দুর্ঘটনায় ছাত্র গুরুতর আহত, থানায় অভিযোগ ময়মনসিংহের পাড়াইলে অপরাধ ঢাকতে সাজানো মামলা: চোরের মায়ের উল্টো থানায় অভিযোগ  অসহায় বিনা আক্তারের পাশে ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসন: তাৎক্ষণিক সেলাই মেশিন প্রদান ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট ইমান আলীর ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ ময়মনসিংহে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হলেন ফাতেমা আক্তার​
নোটিশ :
Wellcome to our website...

ত্রিশালে মায়ের ফেলে যাওয়া সন্তানের আশ্রয় এখন সবুজ মিয়ার পরিবারে: মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত”

মফিজ উদ্দিন তালুকদার (ময়মনসিংহ)।। / ২৬৫ Time View
Update : বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার  ত্রিশাল পৌরসভার   নজরুল অডিটোরিয়াম এলাকার এক ছোট হোটেলের কোণে, যখন ১২ বছরের কিশোর আরাফাত সিয়াম ক্ষুধার্ত ও বিষণ্ণ চোখে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন সমাজ তাকে হয়তো ‘পথশিশু’ ভেবে এড়িয়ে যেতে পারতো। কিন্তু হোটেল ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া তাকে ফিরিয়ে দেননি। পরম মমতায় আগলে নিয়ে প্রমাণ করেছেন—রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বড় হতে পারে মানবতার বন্ধন।

​আরাফাতের জীবন শুরু থেকেই ছিল কণ্টকাকীর্ণ। জন্মের পর থেকেই সে বাবার স্নেহবঞ্চিত,জীবনে কখনও বাবাকে দেখার ভাগ্য হয়নি তার। মা আকলিমা বেগম জীবিকার তাগিদে নারায়ণগঞ্জের আদি নিবাস ছেড়ে ত্রিশালের একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। কিন্তু গত রমজান মাসে অভাব আর পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন মা। নিজের সন্তানকে ত্রিশাল শহরে একা ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান তিনি। হঠাৎ একা হয়ে পড়া কিশোর আরাফাতের সামনে তখন কেবল অন্ধকার আর ক্ষুধার যন্ত্রণা।
​গত মার্চ মাসে (২০২৬)  ভবঘুরে অবস্থায় আরাফাত আশ্রয় নেয় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারের সামনে অবস্থিত সবুজ মিয়ার হোটেলে। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর ছন্দেরগাও এলাকার সন্তান সবুজ মিয়া বর্তমানে পরিবার নিয়ে ত্রিশালে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ক্ষুধার্ত শিশুটিকে দেখার পর তিনি তাকে কেবল খাবারই দেননি, দিয়েছেন নিজের ঘরে ঠাঁই।

​সবুজ মিয়া(০১৩৪৫ ১০৬৮০৫) জানান, ছেলেটির অসহায়ত্ব তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। তিনি বলেন:
​”শিশুটি যখন ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমার দোকানে আসে, তার চোখের সেই অসহায় চাহনি দেখে আমি স্থির থাকতে পারিনি। আমার নিজেরও সন্তান আছে, তাই একে ফেলে দিতে পারিনি। এখন সে আমার পরিবারেরই একজন সদস্য। আমার সন্তানদের মতোই সে আদর-যত্নে বড় হচ্ছে।”

​নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এই দৃষ্টান্ত বর্তমানে ত্রিশাল এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানরা যদি সবুজ মিয়ার মতো এভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতেন, তবে কোনো শিশুকেই আর পথে পথে ঘুরতে হতো না।

​সবুজ মিয়ার এই মানবিকতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের চরম সংকটে এখনো মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এক নিরাশ্রয় শিশুর জীবনে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে সবুজ মিয়া আজ ত্রিশালের এক প্রকৃত মানবিক গল্পের নায়ক।
সবুজ মিয়ার ঘরে পরম মমতায় থাকলেও আরাফাতের শিশুমন এখনো খুঁজে ফেরে তার গর্ভধারিণী মাকে। তার একমাত্র আকুতি—মা যেন তাকে নিতে ফিরে আসেন। শত অবহেলার পরেও মায়ের কোলে ফেরার এক বুক আশা নিয়ে দিন গুনছে এই কিশোর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর