শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
চূড়খাই বাজার অগ্রণী মডেল স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক  প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন ​পঞ্চম শ্রেণী থেকে রাজপথে: মাঝিয়ালীর ঐতিহ্যবাহী ‘সরকার বাড়ী’র সন্তান ছাত্রদল নেতা নাজমুল সরকার সালাহউদ্দিন আহমদের জন্মদিনে মোতাহার হোসেন তালুকদারের শুভেচ্ছা মউক-এর নতুন চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারকে চরপাড়া ডিগ্রি কলেজের গৌরবোজ্জ্বল সংবর্ধনা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নাজিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ার শফিক ও পিডিবি’র  নাইম এর মানবিকতায় গভীর রাতে বিদ্যুৎ ফিরে পেল সাংবাদিক পরিবার ত্রিশ বছরেও হয়নি কালভার্ট ও সড়ক, চরম দুর্ভোগে রৌমারীর দুই গ্রামের হাজারো মানুষ মরহুম তোফাজ্জল হোসেনের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে মোতাহার হোসেন তালুকদার তারাকান্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান  আকাশ গুরুতর আহত ময়মনসিংহ সদরে ৬০টি মসজিদে টিআর প্রকল্পের চেক বিতরণ
নোটিশ :
Wellcome to our website...

ত্রিশালে মায়ের ফেলে যাওয়া সন্তানের আশ্রয় এখন সবুজ মিয়ার পরিবারে: মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত”

মফিজ উদ্দিন তালুকদার (ময়মনসিংহ)।। / ২৩০ Time View
Update : শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার  ত্রিশাল পৌরসভার   নজরুল অডিটোরিয়াম এলাকার এক ছোট হোটেলের কোণে, যখন ১২ বছরের কিশোর আরাফাত সিয়াম ক্ষুধার্ত ও বিষণ্ণ চোখে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন সমাজ তাকে হয়তো ‘পথশিশু’ ভেবে এড়িয়ে যেতে পারতো। কিন্তু হোটেল ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া তাকে ফিরিয়ে দেননি। পরম মমতায় আগলে নিয়ে প্রমাণ করেছেন—রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বড় হতে পারে মানবতার বন্ধন।

​আরাফাতের জীবন শুরু থেকেই ছিল কণ্টকাকীর্ণ। জন্মের পর থেকেই সে বাবার স্নেহবঞ্চিত,জীবনে কখনও বাবাকে দেখার ভাগ্য হয়নি তার। মা আকলিমা বেগম জীবিকার তাগিদে নারায়ণগঞ্জের আদি নিবাস ছেড়ে ত্রিশালের একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। কিন্তু গত রমজান মাসে অভাব আর পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন মা। নিজের সন্তানকে ত্রিশাল শহরে একা ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান তিনি। হঠাৎ একা হয়ে পড়া কিশোর আরাফাতের সামনে তখন কেবল অন্ধকার আর ক্ষুধার যন্ত্রণা।
​গত মার্চ মাসে (২০২৬)  ভবঘুরে অবস্থায় আরাফাত আশ্রয় নেয় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারের সামনে অবস্থিত সবুজ মিয়ার হোটেলে। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর ছন্দেরগাও এলাকার সন্তান সবুজ মিয়া বর্তমানে পরিবার নিয়ে ত্রিশালে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ক্ষুধার্ত শিশুটিকে দেখার পর তিনি তাকে কেবল খাবারই দেননি, দিয়েছেন নিজের ঘরে ঠাঁই।

​সবুজ মিয়া(০১৩৪৫ ১০৬৮০৫) জানান, ছেলেটির অসহায়ত্ব তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। তিনি বলেন:
​”শিশুটি যখন ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমার দোকানে আসে, তার চোখের সেই অসহায় চাহনি দেখে আমি স্থির থাকতে পারিনি। আমার নিজেরও সন্তান আছে, তাই একে ফেলে দিতে পারিনি। এখন সে আমার পরিবারেরই একজন সদস্য। আমার সন্তানদের মতোই সে আদর-যত্নে বড় হচ্ছে।”

​নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এই দৃষ্টান্ত বর্তমানে ত্রিশাল এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানরা যদি সবুজ মিয়ার মতো এভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতেন, তবে কোনো শিশুকেই আর পথে পথে ঘুরতে হতো না।

​সবুজ মিয়ার এই মানবিকতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের চরম সংকটে এখনো মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এক নিরাশ্রয় শিশুর জীবনে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে সবুজ মিয়া আজ ত্রিশালের এক প্রকৃত মানবিক গল্পের নায়ক।
সবুজ মিয়ার ঘরে পরম মমতায় থাকলেও আরাফাতের শিশুমন এখনো খুঁজে ফেরে তার গর্ভধারিণী মাকে। তার একমাত্র আকুতি—মা যেন তাকে নিতে ফিরে আসেন। শত অবহেলার পরেও মায়ের কোলে ফেরার এক বুক আশা নিয়ে দিন গুনছে এই কিশোর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর