দেশের নিবন্ধন অধিদপ্তরের (রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট) বিদ্যমান সমস্যা নিরসন, আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৬ মে ২০২৬) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে নিবন্ধন অধিদপ্তর এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় দেশের সকল জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারদের উপস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের কয়েকটি যৌক্তিক দাবি সরাসরি সরকারের শীর্ষ মহলে উত্থাপন করা হয়।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহা-পরিদর্শক (আইজিআর) কাজী আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মো: আসাদুজ্জামান, এমপি।
কর্মশালায় সাব-রেজিস্ট্রারদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা। তিনি দেশের প্রায় ৫০ হাজার দলিল লেখক এবং ১৫ হাজার নকলনবিশের (এক্সট্রা মোহরার) দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরেন।
সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান বাজারপরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দেশের ৫০ হাজার দলিল লেখক অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছেন। তাদের জীবিকার স্বার্থে দলিল লেখার পারিশ্রমিক জরুরি ভিত্তিতে যুক্তিযুক্তভাবে পুনঃনির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সাথে, সরকারি কাজের অন্যতম চালিকাশক্তি দেশের ১৫ হাজার নকলনবিশের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি।”
উপস্থিত সকল কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সামনে সরাসরি এই দাবি উত্থাপিত হলে মিলনায়তনে উপস্থিত সবার মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী জনাব মো: আসাদুজ্জামান, এমপি দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি নিজে দাবিগুলো নোট নিয়েছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলিল লেখকদের পারিশ্রমিক পুনঃনির্ধারণ ও নকলনবিশদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
কর্মশালায় উপস্থিত জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রারবৃন্দ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, মাননীয় মন্ত্রীর এই আশ্বাসের মাধ্যমে দেশের নিবন্ধন বিভাগে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।