ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ১০ নং বিসকা ইউনিয়নের কাকচর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘খৈলাপুরী বিল’ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী মেম্বার এবং ভূমিহীন কৃষকদের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জলাশয় দখলের মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খৈলাপুরী বিলটি দীর্ঘ দিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্ষা মৌসুমে বিলের পানি নিষ্কাশন ও এলাকার কৃষিজমি রক্ষার লক্ষ্যে স্থানীয় ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্ত দেওয়া প্রায় ৮২.৬৪ একর জমিতে অতি সম্প্রতি মাছ চাষ ও পানি সংরক্ষণের জন্য অস্থায়ী ঘের নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে একটি চক্র প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে অবাধে মাছ শিকারের সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে “খাস জলাশয় দখল” ও “পানিবন্দি ফসল”-এর মতো বানোয়াট অভিযোগ তুলে সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
জমির মালিকানার বিষয়ে জানতে চাইলে ১০ নং বিসকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌস রত্না বলেন, “উপজেলা ভূমি অফিসের ১২ নং বন্দোবস্ত রেজিস্টারের ৩২০ নং দাগের ৮২.৬৪ একর খাস জমি বিগত ১৯৬৬-১৯৬৭ সাল থেকেই ভূমিহীনদের অনুকূলে সেলামির মাধ্যমে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। ১ নং রেজিস্টার অনুযায়ী এস.এ ১৬২ এবং আর.এস ৩২০ নং দাগে রেকর্ড লিপিবদ্ধ হওয়ার পর আর.এস রেকর্ডসহ তা ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। এই বন্দোবস্তকৃত ভূমি ছাড়া উক্ত দাগের বিপরীতে আর কোনো খাস জমি অবশিষ্ট নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমি কোনো সরকারি খাস ভূমি দখল করিনি। স্থানীয় ভূমিহীনদের নামে আইনিভাবে বন্দোবস্ত নেওয়া জমিকে সরকারি খাস জমি উল্লেখ করে একটি পক্ষ ব্যক্তিগত স্বার্থে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করতেই এই অপচেষ্টা।” আদালতের স্থগিতাদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগও সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, এই বিষয়ের আইনি প্রক্রিয়া অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমান ইউপি সদস্য হারেছ উদ্দিন এই ঘটনার পেছনে একটি চক্রের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, “একটি সুবিধাবাদী চক্র মেছেরা মৌজার খাস জমি জবরদখল করে বাবুল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছে। এখন তারা কাকচর বিলের জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”
ভুক্তভোগী ভূমিহীন কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “ভূমিখেকো এই চক্রটি আমাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চেয়েছিল। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় সরকারি ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মাছ চাষ ও ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এখন আমাদের পেটে লাথি মারতে এই চক্রটি উঠেপড়ে লেগেছে।” কৃষকেরা এই হয়রানির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।