ময়মনসিংহের নান্দাইল বাজারের সুপরিচিত চেপা শুঁটকি ব্যবসায়ী হাসু মিয়া। কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এই ব্যবসায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে তিনি বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি করেন। তবে এই বড় অংকের ব্যবসার পেছনে এখন বড় একটি দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঁচামালের সংকট।
শুঁটকি তৈরির প্রধান উপকরণ হলো দেশি পুঁটি মাছ। হাসু মিয়া জানান, এক সময় স্থানীয় বিল, হাওর এবং নদীনালাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পুঁটি মাছ পাওয়া যেত। জেলেরা নিয়মিত মাছ সরবরাহ করত, ফলে শুঁটকি তৈরিতে কোনো বেগ পেতে হতো না। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন এবং জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ার কারণে দেশি পুঁটি মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
নান্দাইল বাজারের এই ব্যবসায়ী বলেন, “চাহিদা থাকলেও সময়মতো পর্যাপ্ত পুঁটি মাছ সংগ্রহ করা এখন সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয়ভাবে মাছ না পাওয়ায় আমাদের দূর-দূরান্তের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সংগ্রহ করা যেমন কঠিন, তেমনি খরচও অনেক বেশি।”
উল্লেখ্য, নান্দাইল ও তার আশেপাশের এলাকায় শুঁটকির বিশাল বাজার থাকলেও প্রাকৃতিক মাছের উৎস কমে যাওয়ায় হাসু মিয়ার মতো ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। স্থানীয়দের মতে, দেশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষা করা গেলে এই সম্ভাবনাময় শুঁটকি শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব