সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
দলিল লেখক ও নকলনবিশদের অধিকার আদায়ে আইনমন্ত্রীর কাছে মাসুদ রানার জোরালো দাবি দলিল লেখকদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি ও নকলনবিশদের চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর তারাকান্দার  নকলনবিশ নুরুল হক সরকারের মৃত্যুতে সোহেল আকন্দের গভীর শোক কাঁচিঝুলী মোড়ে ড্রেনেজ কাজের ধীরগতি: ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও  দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে ময়মনসিংহবাসী তারাকান্দায় খৈলাপুরী বিল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ: খাস জমি দখলের দাবি নাকচ ভূমি অফিসের ময়মনসিংহের ডায়মন্ড মামুনের ফ্রিল্যান্সিং এর আড়ালে পর্ণ সাইটের দালালী!এলাকায় চাঞ্চল্য : ত্রিশালে জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিতকরণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির মহাসচিব কেএস হোসেন টমাসের ৫৪তম জন্মদিন আজ দলিল লেখক নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলা: কাল সারাদেশে মানববন্ধনের ডাক তারাকান্দা ও হালুয়াঘাটে উন্নয়নের নতুন জোয়ার: একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী
নোটিশ :
Wellcome to our website...

মহান স্বাধীনতার ঘোষক,সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

মফিজ উদ্দিন তালুকদারঃ- / ৩১৯ Time View
Update : সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি আজকের এই দিনে  তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় নিভৃত পল্লী বাগবাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক, অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসী ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে জিয়াউর রহমান ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৯৮১ সালে কিছু বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মর্মান্তিকভাবে শহীদ হন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে তাঁর মা-বাবা আদর করে কমল নামে ডাকতেন। তাঁর বাবা মনসুর রহমান তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন। রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও জাহানারা খাতুন দম্পতির পাঁচ ছেলের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়।
১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে একজন অফিসার ক্যাডেট হিসেবে শহীদ জিয়া যোগদান করেন।

১৯৬৭ সালের এপ্রিল মাসে জিয়াউর রহমান ঢাকার অদূরে জয়দেবপুর সাব ক্যান্টনমেন্টে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে যোগদান করেন। একই বছর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানি যান।
১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। তাঁর ঘাঁটি ছিল ষোলশহর বাজারে।

এখান থেকেই শহীদ জিয়া দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে জাতির সেই ক্রান্তিলগ্নে ভেসে এসেছিল একটি কণ্ঠস্বর, ‘আমি মেজর জিয়া বলছি।’ সেই কণ্ঠ সেদিন অযুত প্রাণে নতুন সঞ্জীবনী মন্ত্র এনে দিয়েছিল। মেজর জিয়ার কণ্ঠস্বর শুনে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে দিশাহারা গোটা জাতি। ‘আমি মেজর জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি’—তাঁর এই অবিস্মরণীয় অবিনাশী ঘোষণায় পথহারা মুক্তিকামী জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মেজর জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কর্নেল এমএজি ওসমানীকে এ দায়িত্ব অর্পণ করার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বৃহত্তর এলাকায় বীরত্বের সঙ্গে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তিনি চৌকস ‘জেড ফোর্স’ গঠন ও পরিচালনা করেন। যুদ্ধ শেষে জিয়াউর রহমান পুনরায় সেনাবাহিনীতে ফিরে আসেন এবং ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফের পদে বহাল হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রপতি হলে সেনাবাহিনীসহ গোটা জাতির ভাগ্যোন্নয়নে তখন বিরাজ করছিল চরম অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে খন্দকার মোশতাককে পাল্টা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করে আধিপত্যবাদের ক্রীড়নকরা ক্ষমতা দখল করে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের এ দেশীয় চুরেরা ষড়যন্ত্র করে জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে। কিন্তু ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে সিপাহি-জনতা তাঁকে মুক্ত করে। সে সময় কিংকর্তব্যবিমূঢ় নেতৃত্বশূন্য জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয় সৈনিক-জনতা। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতির চরম অধঃপতনের সময় মহান দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

জিয়ার ঈর্ষণীয় এই জনপ্রিয়তা ও দেশপ্রেমই তাঁর জন্য কাল হয়েছিল। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা চট্টগ্রামে তাঁকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতে গোটা পৃথিবী শোকাভিভূত হয়ে পড়েছিল। এই শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল শেরে বাংলানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যানাজায়। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে সেদিন জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল।

শহীদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বলেছেন, ‘শহীদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রবক্তা ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।’

মহান এই রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক সাম্য, ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের হারানো মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ মাস অসীম বীরত্বে দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যান।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, জাতির এক মহাসংকটকালে ৭ নভেম্বর সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট ‘সার্ক’ গঠন করেন।

বিএনপির কর্মসূচি : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর উদ্যোগে দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটে স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার সকাল ১১টায় দিবসটি উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শেরেবাংলানগরের কবরে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনাসভায় বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর