ময়মনসিংহ বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও পরিবেশের মানোন্নয়নে ২৬ দফার একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। এই নির্দেশনার মধ্যে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা, শিক্ষার্থীদের রিডিং ও নামতা শেখানো এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল উপস্থিতির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ (০৯ জুন ২০২৬) তারিখে ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
পরিপত্রে জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিদ্যালয়গুলো প্রায়শই বিভিন্ন বিভাগীয় ও বহিঃবিভাগীয় কর্মকর্তা পরিদর্শন করে থাকেন। সেই পরিদর্শনের আলোকেই বিদ্যালয়গুলোতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এই সুপারিশ ও নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের অনুরোধ করা হয়েছে।
পাঠদান চলাকালীন শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে কোনোভাবেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
শিক্ষকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করে ‘WhatsApp’ গ্রুপে তথ্য প্রদান করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের আগে প্রস্থান করা যাবে না।
৩য় থেকে ৫Msg শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শতভাগ বাংলা ও ইংরেজি রিডিং পড়া এবং ১-২০ পর্যন্ত নামতা মুখস্থ করা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া তাদের ইংরেজি ‘Vocabulary’ ও প্রয়োজনীয় ‘Grammar’ বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ম থেকে ৫Msg শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বাড়ির কাজ হিসেবে হাতের লেখা দিতে হবে। এছাড়া ‘বেইজ লাইন সার্ভে’র মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ক্যাচমেন্ট এলাকার শতভাগ শিশুর ভর্তি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের শতভাগ ইউনিফর্ম এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
সঠিক রঙ ও মাপের জাতীয় পতাকা ব্যবহার, শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা, ছাদ ও ওয়াশব্লক পরিষ্কার রাখা এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে ফুলের বাগান তৈরি করতে হবে।
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে পাঠদান এবং বিদ্যালয়ের সকল তথ্য নিয়মিত IPEMIS সিস্টেমে হালনাগাদ করতে হবে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ‘আন্ডার বা ওভার মার্কিং’ না করার জন্য এবং স্লিপ ফান্ডের (SLIP) কেনাকাটার সঠিক তালিকা বজায় রাখারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এই আদেশটি ময়মনসিংহের সকল জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের অবগতি ও বাস্তবায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সাথে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে।