পদমর্যাদার অহংকার আর দাপ্তরিক কঠোরতার ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবিকতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের ছোট বাজারস্থ একটি ব্যাংকের এজিএম সারোয়ার হোসেন তালুকদার (লিওন)। নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও সাধারণ মানুষের বিপদে ত্রাতা হিসেবে তার অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় মহলে প্রশংসায় ভাসছে।
গত ৫ই এপ্রিল (রবিবার) ব্যাংকিং সময়সূচী শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হন উপস্থিত গ্রাহক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী লেনদেনের সময়সীমা শেষ হওয়ায় যখন মূল ফটকে তালা ঝোলানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংকে হাজির হন দুই জন ভুক্তভোগী গ্রাহক।
তাদের মধ্যে একজন তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য জরুরি টাকার প্রয়োজনে এসেছিলেন। অন্যজন ছিলেন তারাকান্দা সরকারি কলেজের একজন শ্রদ্ধেয় প্রভাষক, যিনি যানজটের কারণে সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি।
ব্যাংকের এজিএম সারোয়ার হোসেন তালুকদার (লিওন) নিয়মের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের আর্তিতে সাড়া দেন। বিশেষ করে কলেজের ওই শিক্ষক যখন তার সমস্যার কথা বলছিলেন, তখন লিওন সাহেব তাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করে যে সম্মান প্রদর্শন করেন, তা উপস্থিত সবাইকে অভিভূত করে। কোনো প্রকার দম্ভ ছাড়াই অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তিনি ওই দুই গ্রাহকের সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন।
সারোয়ার হোসেন তালুকদার (লিওন) তারাকান্দার এক সম্ভ্রান্ত তালুকদার পরিবারের সন্তান। তিনি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের ছোট ভাই। পারিবারিক শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত উদারতা যে একজন কর্মজীবীর পেশাদারিত্বকে আরও মহিমান্বিত করতে পারে, লিওন সাহেব তার বাস্তব প্রমাণ দিলেন।
উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক সাগর তালুকদার জানান, বর্তমানে যান্ত্রিক এই সময়ে যেখানে নিয়মই সব, সেখানে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন মানবিক আচরণ সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। একজন দক্ষ ও বিনয়ী কর্মকর্তা যে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারেন, ব্যাংকার লিওন আজ তারই প্রমাণ দিলেন।
সংশ্লিষ্টরা তার এই মানবিক মানসিকতা এবং উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন।