তীব্র গরমে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অন্ধকার ঘর। মিটারে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকার পরও আকস্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন। গরমে অতিষ্ঠ পরিবারের শিশু সন্তান ও ভাড়াটিয়ারা। একের পর এক বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে ডেকেও মেলেনি সাড়া। গভীর রাতে এমন এক চরম সংকটময় মুহূর্তে দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়ালেন বিশিষ্ট জননেতা ইঞ্জিনিয়ার শফিক উদ্দিন নয়ন। তাঁর দ্রুত ও আন্তরিক হস্তক্ষেপে গভীর রাতেই আলো ফিরল সাংবাদিক মোঃ মফিজ উদ্দিন তালুকদারের বসতঘরে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭শে জুন (শনিবার)বিকেলে হঠাৎ করেই সাংবাদিক মফিজ উদ্দিন তালুকদারের বাসভবনের পিডিবি বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডিজিটাল মিটারে প্রায় ১৫০০ টাকা ব্যালেন্স থাকা সত্ত্বেও কেন এই বিপর্যয়, তা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। প্রচণ্ড গরমে ঘরের শিশু সন্তানসহ প্রত্যেকে ছটফট করতে থাকেন। বিকেল গড়িয়ে রাত এগারোটা পর্যন্ত একাধিক বিদ্যুৎ মিস্ত্রির সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা “একটু পরে আসছি” বলে সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে রাত ১১টা ৩০ মিনিট বেজে গেলেও কোনো সমাধান মেলেনি।
এই চরম অসহায় অবস্থায় সাংবাদিক মফিজ উদ্দিন তালুকদার দ্রুত ছুটে যান চুরখাই বাজারে তাঁর দীর্ঘদিনের সুহৃদ, জননেতা ইঞ্জিনিয়ার শফিক উদ্দিন নয়নের নিকট। বিষয়টি শোনামাত্রই ইঞ্জিনিয়ার শফিক উদ্দিন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বিষয়টি আমলে নেন। তিনি কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর প্রদান করেন এবং তাঁর সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
ইঞ্জিনিয়ার নয়নের দেওয়া নম্বরে সাংবাদিক মফিজ উদ্দিন তাৎক্ষণিক হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) মাধ্যমে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা জানান। তিনি ছিলেন পিডিবি অফিসের শেনজেন স্টার প্রিপেইড প্রজেক্টের (Shenzhen Star Prepaid Project) টেকনিশিয়ান মোঃ আবু নাইম। তিনি অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার পরিচয় দেন। গভীর রাত হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্যার সমাধান করে দেন। ফলে দীর্ঘ সময় পর বিদ্যুৎ ফিরে আসায় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো ঘর, স্বস্তি ফেরে শিশুসহ পরিবারের সকলের মাঝে।
এই মানবিক ও দ্রুত সহায়তার পর গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাংবাদিক মোঃ মফিজ উদ্দিন তালুকদার বলেন,
”প্রবাদ আছে—বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। আজ রাতে ইঞ্জিনিয়ার শফিক উদ্দিন নয়ন এবং পিডিবি অফিসের টেকনিশিয়ান মোঃ আবু নাইম সেটিই প্রমাণ করেছেন। জননেতা শফিক উদ্দিন নয়নের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ এবং বিদ্যুৎ অফিসের ওই টেকনিশিয়ানের দায়িত্বশীলতা ও দ্রুত পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁদের এই উপকার আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখব।”
এলাকাবাসীও জননেতা ইঞ্জিনিয়ার শফিক উদ্দিন নয়নের এমন জনবান্ধব ও পরোপকারী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সংকটকালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত সমাধান দেওয়ার এই দৃষ্টান্ত স্থানীয় পর্যায়ে পিডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।