আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ২ নং বানিহালা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন ও উন্মুক্ত খোলা চিঠি দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ ছায়াদুল ইসলাম মন্ডল (ছায়াদুল)। চিঠিতে তিনি বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রভাব এবং বানিহালা ইউনিয়নবাসীর প্রতি তার দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন।
পাঠকদের জন্য ছায়াদুল ইসলাম মন্ডলের সেই আবেগঘন চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
“প্রিয় ২ নং বানিহালা ইউনিয়নবাসী,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আজ কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, আপনাদের কাছে আমার হৃদয়ের কিছু কথা বলতে চাই।
২০১১ সালে প্রথমবার আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে (মাত্র ১৫০ ভোট) বিজয়ী হতে পারিনি। কিন্তু সেই ফলাফল আমাকে মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়নি; বরং আরও বেশি করে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
এরপর ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনেও আমি আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বিপুল ভালোবাসা পেয়েছি। কিন্তু জীবনের কিছু বাস্তবতা ও নানা প্রতিকূলতার কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সেই ফলাফল ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৬ সালে ৫,১৬৮ ভোট এবং ২০২১ সালে ৩,৭৯৫ ভোট পাওয়ার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে তৎকালীন নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবুও আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা কোনো কাগজের ফলাফলের চেয়ে অনেক বড়।
এই দীর্ঘ পথচলায় আমি কখনো বানিহালা ইউনিয়নের মানুষকে ভুলে যাইনি। সুখে-দুঃখে, জানাজায়, মিলাদে, বিয়ে-শাদিতে, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে, বিপদে-আপদে—যতটুকু পেরেছি আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। কারণ আমার কাছে রাজনীতি মানে শুধু নির্বাচন নয়, রাজনীতি মানে মানুষের পাশে থাকা, মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন করে সেবা দেওয়া।
আপনাদের অনেকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আজ শুধু রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক ও আত্মীয়তার বন্ধনের মতো। আপনাদের হাসিতে আমি আনন্দ পাই, আপনাদের কষ্টে আমার হৃদয় ভারী হয়ে যায়। এই সম্পর্ক কোনো নির্বাচনের আগে তৈরি হয়নি, আবার কোনো নির্বাচনের ফলেও শেষ হবে না।
আমি জানি, মানুষ ভুল করে। আমারও সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। যদি কখনো আমার কোনো আচরণে আপনাদের কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে মহানুভবতার সঙ্গে ক্ষমা করে দেবেন।
আমার একটাই চাওয়া—২ নং বানিহালা ইউনিয়নবাসী বিগত দিনে যেভাবে আপনারা আমাকে একজন পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আগামী দিনেও দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই একইভাবে আমার পাশে থাকবেন। আপনাদের এই ভালোবাসাই আমার পথচলার একমাত্র শক্তি।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ ছায়াদুল ইসলাম মন্ডল তারাকান্দার এক ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও সমাজসেবক পরিবারের সন্তান। তার দাদা মরহুম আব্দুল গফুর মন্ডল তারাকান্দা বাজারের একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব এবং তারাকান্দা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অন্যতম দাতা সদস্য। এছাড়া এলাকায় সরকারি খাদ্যগুদাম স্থাপনের জন্য তিনি নিজের ভূমিও দান করেছিলেন।
পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখে ছায়াদুল ইসলাম মন্ডল ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং বানিহালা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব-২ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি তারাকান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক, উপজেলা যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভাপতি ও যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক কারণে ২০০৯ সালের পর থেকে তাকে একাধিকবার কারাবরণ ও ফেরারী জীবনযাপন করতে হয়েছে।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। ২০০৮ সালে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ ভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘তারাকান্দা বণিক সমবায় সমিতি লিঃ’-এর সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, ছায়াদুল ইসলাম মন্ডল বিগত তিনটি নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলেও মাঠ ছাড়েননি। বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকায় এলাকায় তার একটি বিশাল কর্মী ও সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। এই খোলা চিঠির পর বানিহালার রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।