ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তরুণ-তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ও স্বেচ্ছায় কোর্ট ম্যারেজ করার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে ও দেশের প্রচলিত আইন মেনে হওয়া একটি বিবাহকে ‘জোরপূর্বক অপহরণ’ দাবি করে নিরপরাধ এক যুবক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত আইনি নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, তারাকান্দা উপজেলার ঢাকুয়া ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া গ্রামের হাসিম উদ্দিনের পুত্র এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোঃ মনির হোসেনের সাথে একই উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের কলহরি গ্রামের তরুণী মোসাঃ মারিয়া খাতুন (পূর্ব নাম- সায়ন্তি সরকার ঐশী)-এর দীর্ঘদিনের গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। মারিয়া খাতুন জন্মসূত্রে সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী হলেও দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকার বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
একই দিনে (১৪ জুন) পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতা এড়াতে তারা উভয়ে প্রাপ্তবয়স্ক (সাবালক) হিসেবে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুসলিম শরীয়তের বিধান মোতাবেক এবং আইনি হলফনামার (কোর্ট ম্যারেজ) মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
মামলার এজাহারে মেয়ের বাবা দাবি করেছেন, গত ১৫ জুন মেয়েটিকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে অপহরণ করা হয়েছে এবং মেয়েটি ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪ বছর)। অথচ আদালতের বৈধ হলফনামা এবং কনের নিজস্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বিয়ের তারিখ ছিল ১৪ জুন— অর্থাৎ কথিত অপহরণের ঘটনার এক দিন আগেই তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন!
কনে মারিয়া খাতুন (১৮) হলফনামায় স্পষ্ট ও স্বজ্ঞানে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি কোনো প্রকার প্রলোভন, ভয়ভীতি বা প্ররোচনা ছাড়াই নিজের একক সিদ্ধান্তে মোঃ মনির হোসেনকে স্বামী হিসেবে বরণ করেছেন। আইনজীবীদের মতে, কনে যেহেতু নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে বিয়ের হলফনামায় স্বাক্ষর করেছেন এবং নিজেকে সাবালিকা দাবি করেছেন, সেহেতু পরবর্তীতে তাকে ‘নাবালিকা’ বা ‘অপহৃতা’ সাজিয়ে মামলা করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনি প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার।
আইনিভাবে বিয়ের পর এই নবদম্পতি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার বউ-বাজার রোডের একটি বাসায় যৌথ ও শান্তিপূর্ণ জীবন অতিবাহিত করছিলেন। মূলত মেয়ের পরিবার ভিনধর্মে মেয়ের বিয়ে ও এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায়, তাদের অবস্থান টের পেয়ে পুলিশ মারফত মেয়েকে ‘উদ্ধার’ করে মেয়ের পিতা-মাতার হেফাজতে দেয়া হয়। পরবর্তীতে গত ১৯ জুন তারাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মামলা (মামলা নং-২০) দায়ের করা হয়।
ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, মোঃ মনির হোসেন কোনো অপরাধী বা অপহরণকারী নন। তিনি একজন সাধারণ চাকুরিজীবী এবং সুনাগরিক। মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করে মনিরকে বিয়ে করেছেন। হলফনামায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই বিবাহের প্রতি কোনো পক্ষের আত্মীয়-স্বজন বা অভিভাবকগণ বিরোধিতা করলে তা সর্বআদালতে অগ্রাহ্য বলে গণ্য হবে।
শুধুমাত্র প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে একটি সুন্দর ও বৈধ সম্পর্ককে ধ্বংস করতে এবং একটি নিরপরাধ যুবকের ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ছেলের পরিবার এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি পেতে জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।