ময়মনসিংহের তারাকান্দায় একটি সাজানো অপহরণ মামলার অভিযোগে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এক মেধাবী ছাত্রের শিক্ষাজীবন। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. তামিম আহমেদ ইফতু এবং তার পরিবার এখন আইনি হয়রানি ও সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। পরিবারের দাবি, স্বেচ্ছায় বিয়ের জেরে পরিকল্পিতভাবে ‘মিথ্যা’ মামলা দিয়ে একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ ধূলিসাৎ করার চেষ্টা চলছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তারাকান্দার গোপিনাথপুর গ্রামের মো. মানিক মিয়ার ছেলে তামিম আহমেদ ইফতু এবং প্রতিবেশী মধুপুর গ্রামের মোছা. ইতি আক্তার একে অপরের সহপাঠী। দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্রে তারা গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে স্বেচ্ছায় এফিডেভিট করে বিবাহের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের খবর জানাজানি হওয়ার পর কনের পরিবার কৌশলে মেয়েকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তারাকান্দা থানায় তামিমের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা (নং ১৮, ধারা ৭/৩০) দায়ের করে। বিস্ময়করভাবে এই মামলায় তামিমের বাবা-মাকেও আসামি করা হয়েছে।
ছেলের বাবা-মা জানান, এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা বলেন,”আমাদের ছেলে ও মেয়ে একই স্কুলে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। মেয়ের বাড়ি স্কুলের কাছে হওয়ায় মেয়ের মা নিজে ফুসলিয়ে আমাদের মেধাবী ছেলে ইফতুকে তার মেয়ের সাথে প্রেম ও বিয়ে করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটায় তিনি আমাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। আমরা এখন আমাদের ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত।”ভুক্তভোগী তামিম আহমেদ ইফতু বকশীমূল উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ও মেধাবী ছাত্র। বর্তমানে যখন তার পরীক্ষার টেবিলে থাকার কথা, তখন তাকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি ছেলের জীবন ও ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আইনজীবীদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার রোধে উচ্চ আদালতের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এই মামলায় কনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি এবং বিয়ের দালিলিক প্রমাণাদি পর্যালোচনার মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।
ছেলের পরিবার এবং এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে এই মামলাটি করা হয়েছে। একটি মিথ্যা মামলার বলী হয়ে যেন একটি মেধাবী ছাত্রের স্বপ্ন ভেঙে না যায়, সেজন্য তারা ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন।