কয়েক বছর আগেও যার পরিচয় ছিল একজন সাধারণ মোবাইল মেকানিক হিসেবে, ঋণের বোঝা বইতে যাকে হিমশিম খেতে হতো, আজ সেই আশরাফুল ইসলাম মামুন ওরফে “ডায়মন্ড মামুন” এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। ময়মনসিংহের চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের ল্যাংড়া বাজার এলাকার এই যুবকের রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার গল্প এখন পুরো জেলার ‘টক অব দ্য টাউন’। তবে এই চোখ ধাঁধানো সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার জগত—অনলাইন ক্যাসিনো আর মানি লন্ডারিংয়ের বিশাল এক নেটওয়ার্ক।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, মামুনের আর্থিক অবস্থা পরিবর্তনের গ্রাফটি অলৌকিক বললেও কম বলা হয়। একসময় দিনমজুরের কাজ করা মামুনের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই দ্রুত উত্থানের নেপথ্যে কাজ করেছে আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্মের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ আয়ের টাকায় মামুন ইতোমধ্যেই গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ: এলাকায় নির্মাণ করেছেন চোখধাঁধানো ডুপ্লেক্স বাড়ি।
নামে-বেনামে ক্রয় করেছেন কৃষিজমি। তৈরি করেছেন দেশি-বিদেশি গরুর বিশাল খামার।
অভিযোগ উঠেছে, মামুন স্মার্টফোন ব্যবহার করে ফেসবুক গ্রুপ, টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং গোপন লিংকের মাধ্যমে পরিচালনা করেন ক্যাসিনো ব্যবসা। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন চলে তার নেটওয়ার্কে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, তার এই নেটওয়ার্ক এখন শহর ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে মফস্বল ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। দ্রুত বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তিনি শত শত তরুণকে ঠেলে দিচ্ছেন সর্বনাশের পথে। অনেক পরিবার তার এই জুয়ার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, মামুন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগতভাবে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণ করছেন। তার এই ‘পেশিশক্তি’ এবং ‘অস্ত্রের মহড়া’র কারণে স্থানীয়রা তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পান না। এলাকায় এক ধরণের ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
কীভাবে একজন ব্যক্তি এত বড় অপরাধী চক্র নিয়ন্ত্রণ করছেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—তার নেপথ্যে কারা? কারা পাচ্ছেন এই অবৈধ আয়ের ভাগ? কোন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি আইন-শৃঙখলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন?
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আশরাফুল ইসলাম মামুন ওরফে ডায়মন্ড মামুনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি এবং সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ময়মনসিংহের এই ‘ডায়মন্ড’ সাম্রাজ্যের আড়ালের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।