ময়মনসিংহের তারাকান্দায় অবস্থিত ‘নূরে মদিনা আবাসিক হাফিজিয়া মাদ্রাসা’র পরিচালকের বিরুদ্ধে শিশুশ্রমে বাধ্য করা এবং চরম অবহেলার কারণে এক ছাত্র গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনায় ওই ছাত্রের দুই পা দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি মুখের দুটি দাঁত ভেঙে গেছে ও কোমরে মারাত্মক আঘাত পেয়েছে। এ ঘটনায় সুবিচার চেয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শফিকুল ইসলাম তারাকান্দা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাদমান আহম্মেদ (১২) ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা ও বোর্ডিংয়ে অবস্থান করে আসছিল। অভিযোগ মতে, গত ১ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে মাদ্রাসার পরিচালক ক্বারী আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ কোনো বেতনভুক্ত বাবুর্চি না রেখে ১২ বছরের কোমলমতি ছাত্র সাদমানকে দিয়ে রান্নাঘরের কাজ করাচ্ছিলেন। আলু সিদ্ধ করার সময় ফুটন্ত গরম পানি ছিটকে পড়ে তার দু’টি পা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
যন্ত্রনায় চিৎকার দিয়ে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় শিশুটি পা পিছলে পড়ে গেলে মেঝেতে আঘাত লেগে তার মুখের সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায় এবং কোমরে গুরুতর আঘাত পায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি সকাল ৭টায় ঘটলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবককে বিষয়টি জানান দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে প্রথমে তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়দের দাবি ও অভিভাবকের অভিযোগ, মাদ্রাসা পরিচালক দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিষ্ঠানের বোর্ডিংয়ের ছাত্রদের দিয়ে বাবুর্চির কাজসহ নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভারী কাজকর্ম করিয়ে আসছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের শিশুশ্রম আইন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নিয়মনীতি ভঙ্গ করে তিনি এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, “মাদ্রাসায় পড়াশোনার বদলে কোমলমতি শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছিল। পরিচালক আসাদের চরম গাফিলতি ও শিশুশ্রমের কারণে আজ আমার ছেলের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তার শিক্ষা জীবন বিপন্ন। আমি এই অন্যায় ও নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পরিচালক ক্বারী আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তারাকান্দা থানা পুলিশ জানায়, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।