ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ১১ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল এলাকায় একের পর এক চুরি, সামাজিক অনাচার এবং অপরাধীদের শেল্টার দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধ ঢাকার কৌশল হিসেবে এলাকার নিরীহ প্রতিবেশীদের নামেই থানায় উল্টো লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন অভিযুক্ত বেদেনা নামের এক নারী।
স্থানীয় সূত্রের বিবরণ ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অভিযোগকারী বেদেনার ছেলে আবু বক্কর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের চুরি ও অপকর্মের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট অভিযোগ:
পাড়াইল এলাকার আম্বির বাড়ির নজরুলের মুরগি চুরি, আঃ গাফফার এর ফিসারী থেকে মাছ চুরি এবং স্থানীয় পাড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটের পাইপ চুরির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আবু বক্কর সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার এক ট্রাক ড্রাইভার তাকে সহানুভূতির বশে হেলপার হিসেবে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে গেলে, সেখানে সুযোগ বুঝে ড্রাইভার আনিসের চার হাজার টাকা চুরি করে সটকে পড়ে সে।
নারায়ণগঞ্জ ফেরিঘাটে চুরি করার কারনে আবু বক্কর এর বিরুদ্ধে আনিস ড্রাইভার মামলা করেন।
এমনকি পাশের বাড়ির এক অসহায় বিধবা নারীর ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও আসবাবপত্র চুরির ঘটনাও ঘটিয়েছে এই কিশোর।
এলাকাবাসীর দাবি, আবু বক্করের এসব চুরির কর্মকাণ্ড হুট করে ঘটছে না। এলাকার কতিপয় অসাধু ও কুচক্রী ব্যক্তি এদের পেছন থেকে ইন্দন ও আশ্রয়-প্রশয় (শেল্টার) দিচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার কতিপয় বিতর্কিত ব্যক্তিরা সরাসরি এই পরিবারকে অপরাধের সুযোগ করে দিচ্ছে এবং আইনি বিচার থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
এছাড়া অভিযোগকারী বেদেনা খাতুনের বিরুদ্ধেও এলাকায় সামাজিক অনাচার ও বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। জমি কেনাবেচা এবং গরুর দালালি সংক্রান্ত বিষয়ে তথাকথিত হালিম নামের এক প্রভাবশালীসহ আরো অনেকে সরাসরি মদদ রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছেলে ও পরিবারের এসব চুরি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড চাপা দিতেই পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশী আজিজ (৫০), নবি (৩০) ও পারভীন (৪০)-এর বিরুদ্ধে অহেতুক মারধর ও হুমকির গল্প সাজিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বেদেনা। উদ্দেশ্য—প্রতিবেশীদের চাপে রাখা, যাতে কেউ চুরির প্রতিবাদ করার সাহস না পায়।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা জানান, সত্য ঘটনা আড়াল করে থানায় এরকম ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া স্পষ্টতই আইনের অপব্যবহার। তারা এ বিষয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধী এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের আইনগত আওতায় আনার জন্য ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ ও কোতোয়ালী মডেল থানা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।