বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ সদরের চূড়খাই বাজার নাজিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী ‘জলবায়ু পরিবর্তন সচেতনতা কর্মসূচি’। কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ এবং এর সঠিক পরিচর্যা।
আজ ২৯ জুন (সোমবার) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করেন। শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ করতে হাতে-কলমে বৃক্ষরোপণ ও তা রক্ষণাবেক্ষণের কৌশল শেখানো হয়।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোপণের জন্য মূলত তিন ধরনের গাছের ওপর জোর দেওয়া হয়:
ফলজ বৃক্ষ: পুষ্টি ও ভিটামিনের জোগান নিশ্চিত করতে আম, কাঁঠাল ও পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করা হয়।
বনজ বৃক্ষ: দীর্ঘমেয়াদি ছায়া ও অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে মেহগনি ও নিমের চারা লাগানো হয়।
ঔষধি বৃক্ষ: প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তুলসী, আমলকী ও অর্জুনের চারা রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কেবল গাছ লাগালেই চলবে না, সেটিকে বাঁচিয়ে রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। এজন্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে দিয়ে রোপণকৃত গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা, জলসেচন এবং গবাদি পশুর হাত থেকে রক্ষার জন্য বেড়া দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
“তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তুলতে এই প্রকল্প দারুণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং সেটির যত্ন নেওয়া।”
নাজিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজী মোঃ আঃ মুকিম এই চমৎকার উদ্যোগের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে একটি সবুজ ও আদর্শ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।