উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার। অথচ আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো ছোঁয়াই পৌঁছেনি এখানে। দীর্ঘ ২৫–৩০ বছর ধরে ভেঙে যাওয়া একটি কালভার্ট পুনর্নির্মাণ না হওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের উপযোগী না করায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কুটির চর ও ফলুয়ার চর এলাকার হাজারো মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুটির চর এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ কবির হোসেনের বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে খালের ওপর থাকা কালভার্টটি প্রায় ২৫–৩০ বছর আগে প্রবল পানির স্রোতে ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ তিন দশক পার হতে চললেও সেখানে নতুন কোনো কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
একই সাথে, মোঃ আব্দুস সালামের দোকান থেকে পশ্চিম ফলুয়ার চর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলিত। সামান্য বৃষ্টিতেই এই মাটির সড়কটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
২০১৬–২০১৭ সালের দিকে নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবছর নতুন করে সাঁকো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বহন করা দরিদ্র গ্রামবাসীদের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় সেটিও একসময় ভেঙে পড়ে। বর্তমানে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে খেয়া নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর পক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক মেম্বার মোঃ আজমল হক মোড়লের পুত্র মোঃ শাহাদ আলী বলেন :
”দীর্ঘদিন ধরে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছ থেকে শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। একটি কালভার্ট ও একটি ভালো রাস্তার অভাবে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই?”
এই সড়ক ও কালভার্টটি ব্যবহার করে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, বৃদ্ধ, শিশু ও অসুস্থ রোগীদের। জরুরি চিকিৎসায় কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ন্যূনতম সুযোগও এখানে নেই।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয় বর্ষাকাল বা বন্যার সময়ে। খালের পাশেই রয়েছে এলাকার একমাত্র কবরস্থান। কালভার্ট না থাকায় এ সময়ে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যেতে স্বজনদের চরম বেগ পেতে হয়।
ভুক্তভোগী জনগণের অভিযোগ, এই চরম দুর্ভোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অবহেলিত এই অঞ্চলের শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে কুটির চর এলাকার খালের ওপর দ্রুত একটি টেকসই কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং মোঃ আব্দুস সালামের দোকান থেকে পশ্চিম ফলুয়ার চর পর্যন্ত সড়কটি পাকা করার জোর দাবি জানিয়েছেন রৌমারীর হাজারো মানুষ।