ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা ঐতিহাসিক ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৩ মে) দুপুর ২টায় উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় পৌঁছে তিনি এই উন্নয়ন কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে মারাত্মক পানির সংকট দেখা দিত। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সরকারের এই পুনঃখনন উদ্যোগের ফলে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৭ বছর আগে এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘ধরার খাল’ খনন করেছিলেন। সময়ের বিবর্তনে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার হাজারো কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালের দরিরামপুর নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩, ২৪ ও ২৫ মে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব উদযাপন করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “নজরুলের আদর্শ, সাম্য ও মানবতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সরকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।” এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন এবং কৃষিবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ত্রিশাল সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ, র্যাব ও এসএসএফ সদস্যদের তৎপর উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ করায় পুরো ত্রিশালে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দরিরামপুর নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণের এক পাশে নির্মাণ করা হয় বিশাল প্যান্ডেল এবং অন্য পাশে বসে ঐতিহ্যবাহী নজরুল মেলা। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন।
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। মতবিনিময় শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিক ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন এবং নজরুল জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্বের একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।