ফ্রিল্যান্সিং এর আড়ালে পর্ণ সাইটের দালালী!এলাকায় চাঞ্চল্য :পর্ব-০২
দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সমাজ বিধ্বংসী আশরাফুল ইসলাম মামুন এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের আড়ালে তরুন, তরুনীদের ফ্রিল্যান্সিং শিখে লক্ষ, লক্ষ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মাধ্যমে ফিশিং লিংক পাঠিয়ে একাউন্ট হ্যাক এবং পর্নোগ্রাফি সাইটের দালালি করে আসছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মামুন এলাকায় নিজেকে একজন বড় মাপের ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচয় দেন। ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়ে রাতারাতি বড়লোক করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি এলাকার শিক্ষিত তরুণীদের টার্গেট করে শম্ভুগঞ্জ বাজারে তার ব্যাক্তিগত অফিসে নিয়োগ দেন। প্রশিক্ষণ দেওয়ার নাম করে তিনি কৌশলে ‘ফিশিং লিংক’ (Phishing Link) পাঠিয়ে অন্যের ব্যাংক, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে হাতিয়ে নেন অর্থ।
পর্ণ সাইটের দালালী :
অভিযোগের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিকটি হলো পর্নোগ্রাফি সাইটের সাথে সংশ্লিষ্টতা। জানা গেছে, মামুন বিভিন্ন পর্নো সাইটের দালালি বা প্রমোশন করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করেন। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে অনেকে মুখ না খুললেও বর্তমানে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ল্যাংড়া বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মামুনের রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া তার রহস্যজনক চলাফেরা এবং কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার বিষয়টি আগে থেকেই সন্দেহের উদ্রেক করেছিল। বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদ পত্রে বিষয় টি নিয়ে খবর প্রকাশ হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া পরে এবং বেরিয়ে আসে মামুনের অন্ধকার জীবনের তথ্য। ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষ কে সর্বশান্ত করার অভিনব কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘদিন যাবত প্রতারণা, জালিয়াতি করে আসলেও মামুন ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফ্রিল্যান্সিং একটি সম্মানজনক পেশা হলেও মামুনের মতো অসাধু ব্যক্তির কারণে প্রকৃত ফ্রিল্যান্সাররা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
”সে নিজেকে ফ্রিল্যান্সার বলে পরিচয় দিলেও আসলে সে সাইবার অপরাধের সাথে জড়িত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি –
এই ডিজিটাল জালিয়াতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে মামুনের ল্যাপটপ ও ব্যবহৃত ডিভাইস, অবৈধ ভাবে অর্জিত সম্পদ জব্দ করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।
উন্মোচিত হবে তার ভয়ংকর অধ্যায়।