বয়স মাত্র ২১, কিন্তু দায়িত্বের ভার যেন পাহাড়সম। যে বয়সে সমবয়সী বন্ধুরা বই-খাতা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে আসাদুল মিয়াকে ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। ত্রিশাল দরিরামপুর সরকারি মডেল একাডেমিতে সপ্তম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় যখন তার বাবা প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী হন, তখনই থমকে যায় আসাদুলের পড়াশোনার স্বপ্ন।
ত্রিশাল দরিরামপুরের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আসাদুল মিয়া। বাবা আবুল হোসেন দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় শয্যাশায়ী। বৃদ্ধ মা, ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট এক ভাই, স্ত্রী এবং এক শিশু সন্তান নিয়ে আসাদুলের ছয় জনের বিশাল সংসার। বর্তমানে তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা, যা পরিবারের আগামী দিনের ব্যয় ও দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংসার চালাতে আসাদুল প্রথমে একটি কোম্পানির সেলসম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই সামান্য আয়ে অসুস্থ বাবার চিকিৎসা আর পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তবুও দমে যাননি তিনি; অনেক ত্যাগ আর জমানো টাকায় সম্প্রতি কিনেছেন একটি রিকশা। এখন এই রিকশার চাকা ঘোরার ওপরই নির্ভর করছে তার পুরো পরিবারের ভাগ্য।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিবারের প্রতি অসীম দায়বদ্ধতার এক জীবন্ত উদাহরণ আসাদুল মিয়া। অভাবের কাছে মাথানত না করে রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়েই তিনি স্বপ্ন বুনছেন এক সুন্দর আগামীর।