ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ৯নং কামারগাঁও ইউনিয়নে চলছে ত্রাসের রাজত্ব। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি আর ভূমি দস্যুতায় এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠা এই অপরাধচক্রের মূলে রয়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত সাইফুল ইসলাম (৫০)।
“যেখানেই অন্যায়, সেখানেই প্রতিবাদ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কামারগাঁও ইউনিয়নের রায়জান এলাকার মানুষ এখন বিক্ষুব্ধ। ভুক্তভোগী কাওছার আহমেদ জানান, “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অবৈধ বালু উত্তোলন, নদী দখল আর ভূমি দস্যুতায় আমরা অতিষ্ঠ। কার খুঁটির জোরে সাইফুল এসব করছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
নিয়ামুল ইসলাম নামের অপর এক ভুক্তভোগী ক্ষোভের সাথে বলেন, “সর্বাঙ্গে ব্যথা, মালিশ করবো কোথায়? থানায় অভিযোগ দিয়েও সুফল মিলছে না। অদৃশ্য শক্তির কালো ছায়ায় আমাদের এখন পরিবার নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, রায়জান এলাকার ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম নিজেকে সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান যুবদল নেতা দাবি করে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একটি কিশোর গ্যাং টিম। এমনকি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও রাজনৈতিক ব্যানারে তিনি বড় বড় পদবি ব্যবহার করেন।
স্থানীয় একজন প্রবীণ শিক্ষক বলেন, “সাইফুলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দলের (বিএনপি) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে উচ্চ পর্যায়ের নেতারা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, সাইফুলের অপরাধের পরিধি ব্যাপক:
সম্প্রতি রায়জান বাজারের আবুল বাহার ও নুর জাহানের দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বাজারের চারটি দোকান রাতের আধারে জোরপূর্বক দখলের ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও খাস জমি দখলের সাথেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললে দেশীয় অস্ত্র (দা, বল্লম) নিয়ে হামলা ও খুনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, থানায় বারবার অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জের দাবি, সাইফুল ইসলাম ওই ভূমির বিপরীতে আদালতের ডিক্রি পেয়েছেন। তবে ভুক্তভোগীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, আদালতের কোনো ডিক্রি জারি হয়নি; বরং ভুয়া তথ্যের দোহাই দিয়ে দখলদারিত্ব চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে কামারগাঁও ইউনিয়ন তথা রায়জান এলাকার সাধারণ মানুষ এই ‘অদৃশ্য শক্তি’র কবল থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।