ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন চুরখাই এলাকায় চাঞ্চল্যকর সোহেল মিয়া (৩১) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পনঘাগড়া এলাকার এক কিশোরকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি,নামের মিল থাকায় প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে নির্দোষ মিজানকে (পিতা- আইনুল)এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে,যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে চুরখাই বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোহেল মিয়াকে চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি নিহতের মা শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা (মামলা নং-২০) দায়ের করেন। উক্ত মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে রেজাউল করিম লিটন ও রাশিদা বেগমসহ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মিজানের পরিবার জানায়,এসময় ঘটনাস্থলে মিজান উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাদের অভিযোগ,চুরখাই বাজারের ভাড়াটিয়া ও মাদক সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত জনৈক ‘ড্রাইভার নিজাম ওরফে মিজান’ ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন। কিন্তু স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে পনঘাগড়া এলাকার আইনুলের ছেলে মিজানকে এজাহারের ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মিজানের বাবা আইনুল মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন:
”আমার ছেলে খুনের সাথে জড়িত নয়। ঘটনার দিন সে আত্মীয়ের বাড়িতে ছিল। একজন মাদকসেবী ও চালক মিজানের বদলে আমার নির্দোষ ছেলেকে আসামি করে আমাদের সাজানো জীবন তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সোহেল হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই, কিন্তু নিরপরাধ কেউ যেন শাস্তি না পায়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সোহেল ও ঘটনার মূল অভিযুক্তদের মধ্যে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
মিজানের পরিবার ও এলাকাবাসী ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন,যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করা হয়। তারা বিশ্বাস করেন, সঠিক ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে মিজানের নির্দোষ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হবে এবং তাকে এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।