ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ১৫ বছরের কিশোর তামিম আহমেদ ইফতুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কথিত অপহরণ মামলায় দালিলিক বৈপরীত্য ও নজিরবিহীন অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। মামলার কথিত ভিকটিম ‘অপহৃত’ থাকাকালীন সময়ে স্কুলে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার তথ্য ফাঁস হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কারাগারে থাকা ইফতুর বাবা-মায়ের দ্রুত জামিন ও মুক্তি নিশ্চিত করতে আদালতের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯/১১/২০২৫ থেকে ১২/১২/২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ভিকটিম অপহৃত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বকশিমুল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের রেকর্ড এবং হাজিরা খাতা বলছে ভিন্ন কথা। উক্ত সময়কালে কথিত ভিকটিম নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আইনজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তি অপহৃত অবস্থায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা কেবল অবিশ্বাস্যই নয়, বরং এটিই প্রমাণ করে যে মামলাটি তথ্যগতভাবে ভিত্তিহীন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ, নাবালক ইফতুকে প্রাপ্তবয়স্ক সাজাতে এফিডেভিট জালিয়াতি করা হয়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, মূলত ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে ভিকটিমের পরিবার এই সাজানো মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যে কয়েকশ গ্রামবাসীর গণস্বাক্ষরিত একটি আবেদন ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রেরণ করা হয়েছে।
গত ২১শে এপ্রিল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ইফতুর বাবা ও মা উভয়েই কারাবন্দী। এর ফলে ১৫ বছরের কিশোর ইফতু এবং তার পরিবারটি বর্তমানে অভিভাবকহীন ও চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যেখানে মামলার প্রধান অভিযোগই দালিলিক প্রমাণের (স্কুল রেকর্ড) মাধ্যমে সরাসরি খণ্ডন করা সম্ভব, সেখানে আসামিদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখা সুবিচারের পরিপন্থী।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, মোবাইল কললিস্ট (CDR) এবং বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলে এই মামলার সত্যতা প্রমাণিত হবে। একটি সাজানো মামলার কারণে যেন একটি নিরীহ পরিবার ধ্বংস না হয়, সেজন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং আদালতের কাছে দ্রুত জামিন প্রার্থনা করেছেন এলাকাবাসী।