পহেলা বৈশাখের ভোরে যখন নতুন সূর্যের আলো সুতিয়া নদীর রূপালি জলে ঝিলিক দিচ্ছিল, তখনই এক অভূতপূর্ব পুনর্মিলনের সাক্ষী হলো ঐতিহ্যবাহী চুরখাই বাজার। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের টানে মুখোমুখি হলেন এসএসসি ২০০০ ব্যাচের দুই বন্ধু—গণমাধ্যম কর্মী মফিজ উদ্দিন তালুকদার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে (ঢাকা) কর্মরত মমিনুর রশিদ নাদিম।
ভৌগোলিকভাবে তারা দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও তাদের বন্ধন ছিল সুতিয়া নদীর মতোই চিরপ্রবহমান। নদীর পূর্ব পাড়ে ভাবখালী ইউনিয়নের পনঘাগড়া গ্রামের সন্তান মফিজ, আর পশ্চিম পাড়ে ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামের নাদিম। কর্মব্যস্ততা একজনকে রেখেছে খবরের সন্ধানে ময়মনসিংহের মাঠে-ঘাটে, আর অন্যজনকে নিয়ে গেছে রাজধানীর দাপ্তরিক কাজে। বর্তমানে দুজনেই চুরখাই বাজারে নিবাস গড়েছেন।
পহেলা বৈশাখের ভোরে নাদিম যখন বাজারের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন, হঠাৎ তার চোখ পড়ে বন্ধু সাংবাদিক মফিজ উদ্দিন তালুকদারের বাসার দিকে। সবসময় ফেসবুকে বন্ধুর করা সংবাদ বা প্রতিবেদন দেখে অভ্যস্ত নাদিমের মনে তপ্ত ইচ্ছে জাগে—আজ এই বিশেষ দিনেই হবে বাস্তব সাক্ষাৎ।
বন্ধুর দরজায় নাদিমের করা সেই নক যেন শৈশবের ডাক হয়ে ফিরে আসে। দরজা খুলতেই চোখের সামনে দীর্ঘদিনের চেনা মুখ। দুই বন্ধু যখন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, তখন সেখানে কোনো পেশা বা পদের ব্যবধান ছিল না; ছিল কেবল ২০০০ ব্যাচের সেই অকৃত্রিম বন্ধুত্বের টান।
একসাথে বসে পুরনো দিনের গল্প আর নতুন বছরের পরিকল্পনায় মেতে ওঠেন তারা। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে পার হয়ে যায় অনেকটা সময়। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে দুই বন্ধুর এই আনন্দঘন আড্ডা পহেলা বৈশাখের সকালটিকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।
প্রযুক্তি আমাদের দূরত্ব কমিয়ে দিলেও সশরীরে দেখা হওয়া আর বুকে বুক মিলিয়ে কোলাকুলির যে শান্তি, তা মফিজ ও নাদিমের এই সাক্ষাৎ আবারও প্রমাণ করে দিল। বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই, আর পহেলা বৈশাখের চেয়ে ভালো সময় আর কী-ই বা হতে পারে এই মিলনের জন্য!